২৬ মে ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, মঙ্গলবার, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোটিশ
জরুরী ভিত্তিতে কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে যোগাযোগ- ০১৭১২৫৭৩৯৭৮
সর্বশেষ সংবাদ :
চুয়াডাঙ্গায় ৭১ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেফতার দাদার কবরের জায়গা দখল করে তৃতীয় লিঙ্গ এক নারীকে মারধর সহ শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বানারীপাড়ায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৫ হাজার দরিদ্র পরিবারে সাবেক হুইপ জামাল পরিবারের শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ বরিশালে ডিম বিক্রির আড়ালে ফেনসিডিল ব্যবসা, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ৪ নং দিওড় ইউনিয়নবাসী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন চেয়ারম্যান আঃ মালেক মন্ডল ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পেলেন চুয়াডাঙ্গার ১ বন্দি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সীমান্তে ৫টি স্বর্ণসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা আটক ​তেঁতুলিয়ার শালবাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্নের প্রতিবাদে মানববন্ধন বিরামপুরে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব জোতবানি ইউনিয়নে শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, চরম মানবিক বিপর্যয় দর্শনায় ২ নারীসহ ৫ পলাতক আসামি গ্রেফতার
ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত তালুকদার মো..ইউনুস

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত তালুকদার মো..ইউনুস

রাহাদ সুমন,
বিশেষ প্রতিনিধি॥ অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস। ৭১’র রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। বরিশাল-১ ও ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক। স্কুল জীবন থেকে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের অবিনাশী আদর্শে লালিত হয়ে বড় হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি কৃষককুলের নয়নের মনি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের সাহচর্যে রাজনীতি করে গড়ে ওঠা তালুকদার মো. ইউনুস তারঁই মত সৎ রাজনীতিকের পথিকৃৎ হিসেবে সর্বমহলে পরিচিতি ও সুনাম কুড়িয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা তালুকদার মো. ইউনুসের ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে ভারতে এক মাসের সশস্ত্র ট্রেনিং নিয়ে ১৯৭১ সালের ১ অক্টোবর বয়রা বর্ডার এলাকা থেকে দেশে প্রবেশ করে ৪ অক্টোবর যশোরের বাঘারপাড়া নারকেলবাড়ি এলাকা থেকে পাকসেনাদের হাতে তালুকদার মো. ইউনুসসহ ৯৬জন বীর মুক্তিযোদ্ধা আটক হন। প্রথমে তাদের ক্যান্টনমেন্টে ও পরে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। সেখানে কোর্ট মার্শালের বিচারে তাদের ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মুত্যু কার্যকরের আদেশ দেওয়া হয়। ১০ ডিসেম্বর তাদের ফাঁসি কার্যকরের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ৭ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ওই এলাকা শত্রুমুক্ত করলে কারাগারের দায়িত্বরতরা পালিয়ে যায়। ফলে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা জেলের ফটক ভেঙ্গে তাদের মুক্ত করেন। এর পরে ৪ দিন পায়ে হেঁটে তালুকদার মো. ইউনুস তিন সহযোদ্ধাসহ নিজ এলাকা বরিশালের গৌরনদীতে ফিরে এসে যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ৭৫’র ১৫ আগষ্টের পরে জিয়া ও এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এবং ১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথের লড়াকু সৈনিক ছিলেন । এক এগারোর সময়ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে এই নেতা বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফলে বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা মামলায় তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ৯ম সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১(অগৈলঝাড়া-গৌরনদী ) আসনে ও ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার টিকিটে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দুই বার সংসদ সদস্য থাকাকালীন নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখেন। ফলে দলমত নির্বিশেষ আপমর জনতার অতি আপনজন হয়ে ওঠেন। সর্বমহলে সৎ রাজনীতিক ও সাদা মনের মানুষের খ্যাতি পাওয়া জনবান্ধব ও কর্মীবান্ধব নেতা অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পুনরায় বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় বানারীপাড়া ও উজিরপুরের নেতা-কর্মী ও সমর্থরা দারুন উচ্ছ্বসিত ও আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহুর্তে তার পরিবর্তে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে এ আসনে নৌকার টিকিট দেওয়া হয়। একই ভাবে ২০১৮ সালেও প্রথমে তাকে বরিশাল-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল । পরে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য চিত্র নায়ক সোহেল রানাকে মহাজোটের প্রার্থী করা হলে তালুকদার মো. ইউনুসকে সরে যেতে হয়। যদিও ওই নির্বাচনে শেষমুহুর্তে সোহেল রানার পরিবর্তে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহে আলমকে নৌকার টিকিট দেওয়া হয়। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার এ সিন্ধান্তকে হাসি মুখে মেনে নিয়ে তিনি শাহে আলমকে বিজয়ী করতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। এবারও তিনি মনোনয়ন পেয়ে বঞ্চিত হওয়ার পরেও রাশেদ খান মেননকে জয়ী করতে অসুস্থ শরীর নিয়ে রাত-দিন একাকার করে দুই উপজেলায় গণসংযোগ,পথসভা,উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন। আদর্শের রাজনীতিতে চড়াই-উৎরাই থাকবে। সবসময় আপনি পুরস্কৃত হবেন এমনটি নয়। কখনও আপনার পরীক্ষার সময়,কখনও আপনাকে কঠিন সময় পার করতে হবে,কখনও সুবিধাবাদীদের জন্য পিছু হঠতে হবে। কিন্তু,সব কিছুকে মাড়িয়ে যিনি ত্যাগ ও আদর্শের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরবেন, তিনি সত্যিকারের রাজনীতিবিদ। তেমনী একজন আদর্শবান মুজিব অন্তপ্রাণ নেতা তালুকদার মো. ইউনুস। আদর্শ তার ধমনীতে। তাইতো বার বার বঞ্চিত হয়েও তিনি ত্যাগ ও আদর্শের আলোয় উদ্ভাসিত। তালুকদার মো. ইউনুস প্রমাণ করেছেন,ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত সুখ ও আদর্শই রাজনীতিতে শেষ কথা। কিছু পাওয়া না পাওয়ার হিসাবটা সাময়িক। নিজের ব্যাক্তি স্বার্থের চেয়ে দল,দেশ ও নেত্রীর স্বার্থ তার কাছে বড়। তিনি যেভাবে মনোনয়ন পেয়েও আবার হারিয়ে আদর্শচ্যূত হননি, সেই একই আদর্শের পথে যদি আওয়ামী লীগের সকল মনোনয়ন বঞ্চিতরা হাটতেন তাহলে এই রাজনৈতিক দলটি অন্যরকমভাবে বিকশিত হত। কিন্তু অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের মতো কয়জন নেতাই আছেন যারা ত্যাগের মহিমা ও আদর্শের আলোয় উদ্ভাসিত?

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019